শনিবার, ৩ জুন, ২০১৭

পাইকগাছায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর; আহত- ১

পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥
    পাইকগাছায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও ব্যবসায়ীকে মারপিট করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কমলাপুর-মৌখালী বাজারের হারুন গাইনের মুদির দোকানে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
    থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার কমলাপুর গ্রামের আব্দুল বারিক গাইনের ছেলে হারুন গাইনের কমলাপুর-মৌখালী বাজারে একটি মুদি দোকান রয়েছে। দোকানের পাশে একই এলাকার আর্জান গাজীর ছেলে উজ্জ্বল গাজীর ভাড়া দেওয়া একটি চায়ের দোকান রয়েছে। উজ্জ্বল বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের মিটার সরিয়ে নেওয়ার জন্য হারুনকে চাঁপ সৃষ্টি করে আসছিল। ঘটনার দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে উজ্জ্বল ও তার লোকজন হারুনের বিদ্যুতের মিটার ভাংচুর করতে থাকলে, এ সময় বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা হারুনকে বেধড়ক মারপিট করে এবং মুখের দাড়ি ছিড়ে নেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত হারুনকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, ভাংচুর ও মারপিটের খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ মুদি ব্যবসায়ী বাদী হয়ে উজ্জ্বল সহ ৪ জনকে আসামী করে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে।

পাইকগাছা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর

পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছা প্রেসক্লাবের দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান শনিবার সকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জিএম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় সাবেক সভাপতি-সেক্রেটারী, নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নবনির্বাচিত সভাপতি এফএমএ রাজ্জাক, সহ-সভাপতি তৃপ্তি রঞ্জন সেন ও মোঃ আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক এম মোসলেম উদ্দীন আহম্মেদ, যুগ্ম-সম্পাদক এন ইসলাম সাগর, কোষাধ্যক্ষ ইমদাদুল হক, দপ্তর সম্পাদক øেহেন্দু বিকাশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রমথ রঞ্জন সানা, সদস্য মোঃ রবিউল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি বি সরকার, এসএম বাবুল আকতার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম আলাউদ্দীন সোহাগ, হাফিজুর রহমান রিন্টু, আব্দুল মজিদ, আলাউদ্দীন রাজা, কৃষ্ণ রায় ও আবুল হাশেম। সভায় প্রেসক্লাবের নিজিস্ব অর্থায়নে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

পাইকগাছায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবীতে নাগরিক কমিটির মানববন্ধন

পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥
    পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এর প্রতিবাদ ও পবিত্র রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবীতে পাইকগাছা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় বাজার চৌ-রাস্তা মোড়ে নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ শেখ ফারুক হোসেন, কাউন্সিলর গাজী আব্দুস সালাম, রবি শংকর মন্ডল, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মাসফিয়ার রহমান সবুজ, সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, আব্দুর রাজ্জাক বুলি, কৃষ্ণ রায়, গাজী শামছুল হুদা খোকন, গাজী শহিদুল ইসলাম খোকন, গাজী আব্দুস সামাদ, আমিন উদ্দীন সানা, সাজ্জাত আলী সরদার, মাওঃ রইসুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, মৃত্যুঞ্জয় সরদার, আব্দুর রাজ্জাক সরদার, আলহাজ্ব লেয়াকত আলী, সাবেক কাউন্সিলর রাফেজা খানম, মমতাজ পারভীন, শেখ আব্দুল হাফিজ, স ম আব্দুল জব্বার ও আছাদুল ইসলাম। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তরা বলেন, বর্তমান সরকার যেখানে অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে দেশের কোথাও ভয়াবহ লোডশেডিং থাকার কথা নয়, অথচ বর্তমান ডিজিএম যোগদানের পর হতে এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে লোডশেডিং এর মাত্রা আরো বাড়িয়ে ডিজিএম ইচ্ছা করেই সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী ১ সপ্তাহ পর ডিজিএম’এর অপসারণের দাবীতে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে মানববন্ধনে নাগরিক নেতৃবৃন্দ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন।

পাইকগাছায় আলোচিত মিনহাজ নদীর অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ কাজ শুরু করেছেন উপজেলা প্রশাসন

পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছার আলোচিত মিনহাজ নদী থেকে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার সকালে নদীর কয়েকটি স্থানের নেট-পাটা অপসারণ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স ম বাবর আলী, গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
    উল্লেখ্য, উপজেলার গড়ইখালী, চাঁদখালী ও লস্কর ইউনিয়নে অবস্থানরত ২৫১ একর আয়তনের মিনহাজ নদী দিয়ে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের পানি নিষ্কাসন হয়ে থাকে। অত্র এলাকার হাজার হাজার বিঘা চিংড়ী ঘেরের চিংড়ী ও ফসল উৎপাদনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে মিনহাজ নদী। কিন্তু বদ্ধ জলমহল হিসাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীটি ইজারা দেয়ার কারণে পানি সরবরাহ মারাত্মক ভাবে ব্যহত হয়। বিশেষ করে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে ইজারা দেয়া হলেও সমিতির নিকট থেকে অসংখ্য ব্যক্তিরা সার্ব লীজ নিয়ে খন্ড খন্ড করে নেট-পাটা বসিয়ে মাছ চাষ করায় পানি সরবরাহ বিঘিœত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২ বছর আগে চাঁদখালী ও লস্কর ইউনিয়ন সহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কয়েক মাস তলিয়ে থাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও ফসলের ক্ষতি হয়। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নদীটি পূর্বগজালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে ইজারা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে অংশীদারিত্ব নিয়ে আইনজীবী এবিএম এনামুল হক ও সেনা সদস্য জিএম আব্দুর রবের সাথে বিরোধ চলে আসছে। দখল ও কতৃত্ব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিক হামলা, মামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত ৯ মে থেকে নদী এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভা ও আইন শৃংখলা সভায় অধিক গুরুত্ব পায়। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভরা বর্ষা মৌসুমের আগেই মিনহাজ নদীর অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ কাজ শুরু করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ২ জুন, ২০১৭

পাইকগাছায় জামায়াতের আমির ও ভাইস চেয়ারম্যান মাওঃ কামালের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগ নেতার বাড়ী ভাংচুরের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥
খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা জামায়াতের আমির ও ভাইস চেয়ারম্যান মাওঃ কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগ নেতার বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর, মারপিটসহ ক্ষয়-ক্ষতির অভিযোগে থানায় এজাহার দাখিল।
জানাগেছে, পূর্ব শত্রুুতার জের ধরে ক’দিন আগে জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের পর সর্বশেষ বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে উপজেলার মালথে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পূর্ব শত্রুতা উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগ নেতা শেখ জামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির ও ভাইস চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদ্রোহসহ একাধিক মামলার আসামী মাওঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্¦ে ছাত্র-শিবিরের ক্যাডাররা বৃহস্পতিবার বিকেলে তার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে তার স্ত্রীকে মারপিট, ঘরের জানালা-দরজা, পাচালি ভাংচুর, গাছপালা কর্তনকরে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। জানাগেছে, জামায়াতের আমিরসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত ২২ মে জামাল হোসেনের স্ত্রী আছিয়া জামালের থানায় দায়ের করা ৪২ নং মামলা করলে ক্ষীপ্ত হয়ে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছেন-বিবাদমান দু’পক্ষ একই পরিবার এবং উভয়ের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। পুলিশ জানিয়েছেন-মাওঃ কামালের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ জি,আর ৪০/১৫, ২০৫/১৭ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শেখ জামাল হোসেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওঃ কামাল হোসেনসহ ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। এ অভিযোগ প্রসংগে বিভিন্ন মামলায় জামিনে থাকার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওঃ কামাল হোসেন বলেন-জায়গা-জমিসহ একটি চলাচলের বিরোধপূর্ণ রাস্তাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

পাইকগাছা পৌর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন #রাজু সভাপতি, #সম্পাদক রনি


পৌর প্রতিনিধি॥ খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘদিন পর পৌর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হলো। মাসুদ পারভেজ রাজুকে সভাপতি ও রায়হান পারভেজ রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌর ছাত্রলীগের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন পল্টু ও সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান সাগরের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শুক্রবার এই কমিটি ঘোষণা করেন। ৬ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অন্যান্যরা হলেন সহসভাপতি পদে রিভু রায় এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে পল্লব দেব নাথ, মোহাম্মদ রাফেজ উদ্দিন ও সৌরভ গাইনেেক মনোনীত হয়েছেন। উল্লেখ্য প্রায় সাত বছর আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি ও লিটু আনামকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নবগঠিত কমিটির সভাপতি মাসুদ পারভেজ রাজু- স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. শেখ মোঃ নূরুল হক, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন পল্টু ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

পাইকগাছায় মিনহাজ নদীর দখল কতৃত্ব নিয়ে দায়ের করা একাধিক মামলার কারণে এলাকা এখন পুরুষ শূন্য

((সংঘাত- সংঘর্ষ এড়াতে ৯ মে থেকে বলবৎ রয়েছে ১৪৪ ধারা))
পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছার আলোচিত মিনহাজ নদী নিয়ে দু’পক্ষের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। দখল কর্তৃত্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী এবিএম এনামুল হক ও সেনা সদস্য আব্দুর রব গংদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি ১০ থেকে ১৫টি মামলার ঘটনা ঘটে। এসব মামলায় অসংখ্য নিরিহ এলাকাবাসীকে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মিনহাজ নদী এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে।
অনুরূপভাবে, অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় এবিএম এনামুল হক জেল হাজতে থাকায় তার পক্ষের লোকজন গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে করে এলাকা অনেকটাই পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তবে প্রতিপক্ষ আব্দুর রব গংদের আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এনামুল গংদের লোকজন।
সূত্রমতে, উপজেলার গড়ইখালী, লস্কর ও চাঁদখালী ইউনিয়নের আলোচিত মিনহাজ (বদ্ধ জলমহল) নদী লস্কর ও গড়ইখালীর সীমান্তবর্তী মিনহাজ স্লুইচ গেট হতে লক্ষ্মীখোলা পর্যন্ত বি¯তৃত। ২৫১ একর আয়তনের নদীটি ১৪২২ হতে ১৪২৪ সন পর্যন্ত ইজারা নেয় পূর্বগজালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। বিশাল আয়তনের নদীটি নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি দারস্থ হয় স্থানীয় আইনজীবী আমিরপুর গ্রামের মাহমুদ গাজীর ছেলে এবিএম এনামুল হকের। রক্ষনাবেক্ষণ ও শেয়ার চুক্তিনামার মাধ্যমে মিনহাজ নদীতে নিজের কতৃত্ব স্থাপন করেন এবিএম এনামুল। পরবর্তীতে দখল, কতৃত্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্য জিএম আব্দুর রব এর সাথে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয় এনামুল গংদের। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিক হামলা, মামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন গত ৯ মে মিনহাজ নদী এলাকায় জারি করেন ১৪৪ ধারা। যা এখনো বলবৎ রয়েছে। বর্তমানে ২৫১ একর আয়তনের নদীটি ৪টি অংশে ভাগ করে ৪টি গ্র“পের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গজালিয়ার ২টি অংশ রয়েছে সমিতির অনুকূলে। মাঝে চৌমহনী বাজার থেকে বগুলারচক স্কুল পর্যন্ত রয়েছে রবের অনুকুলে। মিনহাজ গেট থেকে বগুলারচক স্কুল পর্যন্ত রয়েছে এনামুলের অনুকুলে। মিনহাজ ওয়াপদা থেকে কানাখালী ব্রীজ পর্যন্ত একটি অংশ রয়েছে সঞ্জীব নামে এক ব্যক্তির অনুকুলে। এ ব্যাপারে এবিএম এনামুল হকের স্ত্রী গাজী সুলতানা পারভীন জানান, সেনা সদস্য আব্দুর রব গংরা আমার স্বামী সহ আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি হয়রানি মূলক মামলা করেছে। এসব মামলার কারণে এলাকা এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। অথচ এনামুল গংদের দায়ের করা মামলার আব্দুর রব গং অনুসারী আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এদিকে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ রাখার দাবী জানিয়েছেন নিরিহ সাধারণ মানুষ।

পাইকগাছা পৌর অভ্যন্তরে নবনির্মিত শিববাটী ব্রীজ সংযোগ সড়কের উদ্বোধন

পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছা পৌর অভ্যন্তরে নবনির্মিত শিববাটী ব্রীজ সংযোগ সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর নবনির্মিত সংযোগ সড়কের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ শেখ মোঃ নূরুল হকের সহযোগিতায় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। প্যানেল মেয়র এসএম ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায়, কাউন্সিলর আসমা আহম্মেদ, কবিতা দাশ, এসএম তৈয়েবুর রহমান, কাজী নেয়ামুল হুদা কামাল, রবি শংকর মন্ডল, সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দাউদ শরীফ, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, বিকাশ সানা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পাইকগাছায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এ সাধারণ মানুষের সীমাহীন দূর্ভোগ## আজ নাগরিক কমিটির মানববন্ধন


পাইকগাছায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারণে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পবিত্র রমজান মাসে লোডশেডিং এর কারণে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন রোজাদাররা। প্রায় প্রতিদিন ইফতারী, তারাবীহ ও সাহ্রীর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এদিকে পবিত্র রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের অপসারণের দাবীতে আজ শনিবার সকাল ১১ টায় পৌর বাজার চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বান করেছে পাইকগাছা নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর জানান, ইতোপূর্বে রমজান মাসে কোন সময় বিদ্যুতের এতো সমস্যা দেখা যায়নি। বিশেষ করে ইফতারী, তারাবীহ ও সাহরীর সময় কখনো বিদ্যুৎ যেতে দেখেনি। কিন্তু বর্তমান ডিজিএম যোগদান করার পর থেকে পাইকগাছা-কয়রায় প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা কারিগরী ত্র“টির কারণে প্রায় সময় দিন-রাত বিদ্যুৎ থাকে না। এ ছাড়া রমজান মাসের শুরু থেকেই রোজাদারদের প্রয়োজনীয় সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে ধর্মপ্রাণ রোজাদাররা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারণে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য ও এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ বর্তমান ডিজিএম যোগদান করার পর বিদ্যুৎ এর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ রমজান মাসে বিদ্যুৎ নিয়ে তালবাহানা করছে। এ জন্য শনিবার সকালে পৌর সদরে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে পবিত্র রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বর্তমান ডিজিএম’এর অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে বলে নাগরিক নেতা মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন।
পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥

বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০১৭

পাইকগাছায় ভদ্রা নদীতে ভয়াবহ ভাঙ্গন; হুমকিতে দেলুটির কালীনগর ওয়াপদার বেড়িবাঁধ

বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় ভদ্রা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে ফের হুমকির মুখে পড়েছে দেলুটি ইউনিয়নের কালীনগর ওয়াপদার বেড়ি বাঁধ। গত বছর থেকে ভাঙ্গন শুরু হলেও ঘুর্ণি ঝড় মোরার প্রভাবে কয়েক দিনের প্রবল ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ ওয়াপদার বাঁধ পরিদর্শন করেছেন পাউবো ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাঁধ পরিদর্শন করে বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন এলাকবাসীকে। অনুরূপভাবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ৩ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে।
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারের কালীনগর ভদ্রা নদীর ওয়াপদার বাঁধে কয়েক দিন ধরে আবারো ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ব্যাপক সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষতির আশংকায় জনগণ আতংকিত হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গনরোধে স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছে। যা ভাঙ্গনরোধের জন্য যথেষ্ঠ নয়। বিষয়টি জানার পর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফকরুল হাসান, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কুমার কুন্ডু ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের প্রবল ভাঙ্গনে ইউনিয়নের কালীনগর ওয়াপদার বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোন মুহুর্তে সম্পূর্ণ বাঁধটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। ভাঙ্গনরোধে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয় এ উদ্যোগ ভাঙ্গনরোধের জন্য যথেষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাঁধ পরিদর্শন করে আগামী ২/১দিনের মধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য আশ্বস্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর দাবী শুধু আশ্বস্ত নয় এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠি ও সম্পদ রক্ষার জন্য বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণ সহ ভাঙ্গনরোধে দ্রুত টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

পাইকগাছায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যুবলীগ নেতার লীজ ঘেরে হামলা-ভাংচুর; দু’লাখ টাকার ক্ষতিসাধন

পাইকগাছা প্রতিনিধি॥
পাইকগাছায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লীজ ঘেরে হামলা, ভাংচুরসহ দু’লক্ষাধীক টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাইকগাছা থানায় দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগকারী পাইকগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মোঃ আব্দুর রাজ্জাক গাজীর পুত্র পৌরসভা যুবলীগ নেতা আমানুল্লাহ গাজী। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
    অভিযোগসুত্রে জানাযায়, বাদী যুবলীগ নেতা আমানুল্লাহ গাজীর কচুবুনিয়া ও বাইশারাবাদ মৌজায় আনুমাানিক ২০ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের রহিয়াছে, যাহা নিজ সম্পত্তি ও ডিডকৃত সম্পত্তি। গত ২৪ মে বিবাদী মঠবাটি গ্রামের আরশাদ মোল্যার পুত্র ইসলাম মোল্যাসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন যুবক বাদী আমাননুল্লাহর মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে মৎস্য ঘেরের ৫০ খানা মাছ ধরা চারো, ঘেরের বাসাসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় দু’লক্ষাধীক টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং বিবাদী ইসলাম মোল্যা বাদীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় ফাসানোর হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উল্লেখ্য গত ১০ ফেব্রুয়ারী আমান উল্লাহ গাজী বাদী হয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গদাইপুর গ্রামের কাজী হাসনা ইন সাদীর পুত্র কাজী শিফাত, মঠবাটী গ্রামের আরশাদ মোল্যার পুত্র ইসলাম মোল্যা ও মৃত বন্টে মোল্যার পুত্র আরশাদ মোল্যাকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার সুত্র ধরে এ হামলা হতে পারে বলে ধারনা করছে আমানউল্লাহ গাজী। ওই মামলায় গত ২৭ মার্চ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তিতে ১৪৪ ধারা জারীসহ স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়। বিবাদী ইসলাম মোল্যা আদালতের এ আদেশ উপেক্ষা করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নিয়ে উক্ত লীজ ঘেরে হামলা চালায়। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিক জানান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাছ ধরার চারো ও লীজ ঘেরের বাসা ভাংচুর দেখেছি তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

পাইকগাছায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃদ্ধব্যক্তিদের মাঝে লাঠি বিতরণ

পাইকগাছা প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছায় লতা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান ও বৃদ্ধব্যক্তিদের মাঝে লাঠি বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে তেঁতুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউপি সদস্য কৃষ্ণ রায়ের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা ও বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, ইউপি চেয়ারম্যান দিবাকর বিশ্বাস, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি এফএমএ রাজ্জাক, সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, এসএম আলাউদ্দিন সোহাগ, এন ইসলাম সাগর, ইমদাদুল হক, আবুল হাশেম, আমিনুল ইসলাম বজলু, প্রধান শিক্ষক সুকুমার সরকার, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস, ইউপি সদস্য আলমগীর খলিফা, সেবানন্দ রায়, আজিজুল বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ শীল, কাদম্বীনি মন্ডল। ইউপি সচিব জাভেদ ইকবালের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক সুধারঞ্জন গাইন, কিংকর বিশ্বাস, অনুজ রায়, সন্তোষ হালদার, বিশ্বজিৎ সরকার, কালিপদ মন্ডল, ঠাকুর দাশ হালদার, সুকুমার হালদার, বিপুল মন্ডল, প্রসাদ মন্ডল, বিপ্লব হালদার, তপন সরদার, নান্টু মন্ডল, যাদব মন্ডল, উত্তম রায়, রণজিৎ গাইন, ফনিন্দ্র সরকার, তুষার সরকার, শিক্ষার্থী নির্জন সরকার ও দ্বীপা ঢালী। অনুষ্ঠানে ৩১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শিক্ষা উপকরণ এবং ৩৮ জন বয়স্ক ব্যক্তিকে লাঠি প্রদান করা হয়।

অভিযোগের তীর ইউপি #চেয়ারম্যানন_তুহিনের দিকে)))(((পাইকগাছায় জনসাধারণের ব্যবহৃত পানি সরবরাহের ক্যানেলে বাঁধ দেয়ায় হুমকির মুখে শত শত চিংড়ী ঘের

#পাইকগাছা_প্রতিনিধি✍️✍️
পাইকগাছায় জনসাধারণের ব্যবহৃত পানি সরবরাহের ক্যানেলে বাঁধ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের কামুক্ষী খালের মাথায় বাঁধ দিলে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলাকার একাংশের দেড় হাজার বিঘা চিংড়ী ঘেরের পানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাঁধটি দ্রুত অপসারণ করা না হলে শত শত চিংড়ী চাষীদের কোটি টাকার ক্ষতিসাধন সহ আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিস্তির্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ চিংড়ী চাষী ও এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, উপজেলা লস্কর ও চাঁদখালী ইউনিয়নের চকচাঁদমুখ, কেওড়াতলা, হেতালবুনিয়া, উত্তর বিল, কৈয়াসিটিবুনিয়া ও গজালিয়া সহ কয়েকটি গ্রামের চিংড়ী ঘের ও এলাকার পানি সরবরাহের জন্য রেকর্ড ভুক্ত জমির উপর দিয়ে শরণখালীর মাঠামের গেট হতে মিনহাজ নদী পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার ক্যানেল তৈরী করে গত ২০ বছর যাবৎ পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করে আসছে। এতে একদিকে ৫ শতাধিক চাষীর ৬ হাজার বিঘা চিংড়ী ঘেরের পানি উঠা নামা করার ফলে প্রতিবছর উল্লেখিত ঘের থেকে কোটি কোটি টাকার মৎস্য ও চিংড়ী উৎপাদিত হয়ে আসছে। অপরদিকে ক্যানেল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে এলাকার পানি নিষ্কাসন হয়ে থাকে। এদিকে এলাকার জনসাধারণের ব্যবহৃত ক্যানেলের কামুক্ষী খালের মাথায় মঙ্গলবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে বাঁধ দেয়। এর ফলে ক্যানেলের দক্ষিণ পাশের দেড় শতাধিক চিংড়ী ঘেরের পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে চিংড়ী চাষী আলহাজ্ব ইকবাল কাগুজী জানান, চেয়ারম্যান কোন ঘের মালিক বা এলাকাবাসীকে অবহিত না করে হঠাৎ করে পানি সরবরাহের ক্যানেলে বাঁধ দিয়ে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে এলাকার শত শত চিংড়ী ঘের বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়াও বাঁধের ব্যাপারে এলাকার কেউ কথা বলতে গেলে তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। টুটুল কাগুজী জানান, বাঁধ দেওয়ার প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যান ঘের মালিক ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী জন সার্থকে উপেক্ষা করে বাঁধ দিয়েছে। এর ফলে বর্তমানে যে তাপদাহ চলছে তাতে দু’একদিনের মধ্যে শত শত ঘেরের চিংড়ী সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গিয়ে ঘের মালিকরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হবে। ইউনিয়ন যুবলীগনেতা শহীদুল্লাহ কায়ছার জানান, সোমবার এলাকার একটি মাদ্রাসার আজীবন সদস্য সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চেয়ারম্যান খাম-খেয়ালী ভাবে পানি সরবরাহের ক্যানেলে বাঁধটি দিয়েছে। এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন জানান, কেয়ার রাস্তার প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি দেয়া হয়েছে, এখানে মাদ্রাসার সম্মেলন কিংবা অন্যকোন উদ্দেশ্য নাই বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বাঁধকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হওয়ায় যে কোন মুহূর্তে সংঘর্ষ সহ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকায় বাঁধ অপসারণ সহ সংঘাত সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।