রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

Strengthening of Livelihoods through Improved Technology

SUCCESS STORY
 Mr. Abu Sayed Sardar son of Mr. Nurul Sardar is a young energetic self-motivated marginal farmer of Village- Ghoshal, Union-Godaipur, Upazilla- Paikgacha of Khulna district in the South-west of Bangladesh. He has been involved in shrimp farming since 2001 in 0.53 hectare own land and followed traditional culture system. Due to poor farming knowledge he harvested very minimum yield in the previous years and profit margin was very poor, sometimes no profit or even loss also.

Mr. Sayed only depend on shrimp farming but due to poor profit margin and to loss sometimes he could not bear his household & educational expenses of the children and sometimes had to borrow money from the neighbors which was curse for him.   In this regards, he was very hopeless and could not think what to do. In this session, in the year of 2014 he decided to join with aquaculture for Income and Nutrition (AIN) Project activities of WorldFish-Bangladesh with the financial assistance of USAID.

After joining he came to know a new technology namely BMP- Better Management Practice. Now it is clear to Mr. Sayed that the unplanned traditional shrimp culture practice that ignores pond preparation techniques, stocking PCR PLs, maintain of stocking density, water quality management, feed management, other management strategies which cause disease of shrimp and failed to get expected production of shrimp.

Though Mr. Sayed not able to get used to practice improved farming systems in 2014 but from beginning of this year (2015) he has been started his farming systems followed by improved management namely BMP-Better Management Practice. Initially he was uncertain and felt anxiety of the new techniques. After 4-5 months of his culture he was getting back his confidence. When he started harvesting, his face became full of smiles and felt the happiest man in the world. From his 0.53 hectare pond he has got 364 kg shrimp,  72 Kg harina and 250 kg whitefish which total value is 2 Lac 9 thousand. This production and income is four times higher than the previous years.

This farmer, who had never made any profit, has got good profit this year which is more than his expectation. Mr. Sayed shares his experiences with his neighbor farmers and outside of his village. Now he is a happy shrimp farmer who graduated from AIN Project of WorldFish-Bangladesh funded by USAID. Specially, he has thanked to all associated with the Aquaculture for Income and Nutrition Project to assistance the knowledge of modern technology which helped him to increase the production as well as improved his livelihoods.

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫

পাইকগাছার রাড়–লী ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সাবেক কমিটির বিরুদ্ধে টাকা ও জিনিস পত্র আত্মসাৎ’র অভিযোগ

নিউজ অফ পাইকগাছা ॥ পাইকগাছার রাড়–লী পশ্চিমপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সাবেক কমিটির ক্যাশিয়ার ও সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে টাকা ও জিনিসপত্র আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি, সেক্রেটারী ও একসদস্য সাবেক কমিটির ক্যাশিয়ার ও সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবার লিখিত আবেদন করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাড়–লী পশ্চিমপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সাবেক ক্যাশিয়ার একই এলাকার মৃত ওসমান গাজী (পাচু) এর ছেলে মোঃ আবুল হোসেন গাজী ও অপর ভাই সাবেক সেক্রেটারী মোঃ আব্দুস সামাদ গাজী দায়িত্বে থাকাকালিন সময় উভয়ের যোগসাজসে মাদ্রাসার জমি ক্রয়ের জন্য ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯’শ ৯১ টাকা এবং জমি রেকর্ড বাবাদ ৫ হাজার ৩’শ ২৯ টাকা এবং জমির কাগজপত্রসহ আসবাবপত্র নিজেদের কাছে রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সাল থেকে তারা উভয়ে টাকার হিসাব ও জমির কাগজ পত্র কমিটির নিকট হস্তান্তরের জন্য বিভিন্নভাবে কালক্ষেপন করে আসায় মাদ্রাসার সহ-সভাপতি মোঃ জাহান আলী গাজী, সেক্রেটারী মোঃ জামাল উদ্দীন মোড়ল ও সদস্য মোঃ মিন্টু গাজী সাবেক ক্যাশিয়ার আবুল হোসেন গাজী ও সাবেক সেক্রেটারী আব্দুস সামাদ গাজীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কবির উদ্দীন রাড়–লী ইউপি চেয়ারম্যানকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাইকগাছায় ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষায় ৬৮৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ৫০

নিউজ অফ পাইকগাছা ॥   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়
মিত শিক্ষার্থীদের প্রথমবর্ষ ডিগ্রি (পাস) কোর্সের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার একযোগে শুরু হয়েছে। হরতাল নিয়ে উৎকন্ঠার মধ্যে থাকলেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ১ম দিনের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পাইকগাছা ও কপিলমুনি কলেজ কেন্দ্রে এবার মোট পরীক্ষার্থী ৬৮৯ জন, প্রথম দিন অনুপস্থিত ৫০ জন। পাইকগাছার দু’টি কেন্দ্রে ৯টি কলেজ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে। তারমধ্যে পাইকগাছা কলেজ কেন্দ্রে কপোতাক্ষ কলেজ কয়রা, কয়রা মহিলা কলেজ, খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজ, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ, গড়ইখালী আয়ুব ও মুসা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ এবং কপিলমুনি কলেজ। অপরদিকে কপিলমুনি কলেজ কেন্দ্রে ৩টি কলেজ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে, তার মধ্যে পাইকগাছা কলেজ, শালিখা কলেজ এবং হরিঢালী মহিলা ডিগ্রী কলেজ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কবির উদ্দীন পাইকগাছা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পাইকগাছা কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র অধিকর্তা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল জানান প্রথম দিনের পরীক্ষা সুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করি বাকি পরীক্ষাগুলো সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কপিলমুনি কলেজের কেন্দ্র কর্মকর্তা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হাাবিবুল্লাহ বাহার জানান-কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

অবশেষে পাইকগাছা পৌর সদরের প্রধান সড়কের সংস্কার কাজ শুরু;

*****মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরকে এলাকাবাসীর অভিনন্দন*****
দৈনিক পাইকগাছা ॥ অবশেষে পাইকগাছা পৌর সদরের দেড় কিলোমিটার প্রধান সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। পৌরসভার অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যায় সম্বলিত সংস্কার কাজ বৃহস্পতিবার সকালে পরিদর্শন করেন পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর। উল্লেখ্য পাইকগাছা-কয়রা সড়ক পৃথক হয়ে যাওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ জিরো পয়েন্ট থেকে পৌর বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক অঘোষিত ভাবে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে। যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি গত কয়েক বছর সংস্কারের অভাবে জরাজির্ণ হয়ে পড়ে। এতে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পেতে হয় এলাকাবাসীর। অবশেষে দীর্ঘদিন পর সড়কটি চলাচলের জন্য উপযোগি করতে এবং সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ কমাতে পৌর পরিষদ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। গত কয়েক দিন আগে ২০ ফুট প্রস্থ ও ৭ মিঃ মিঃ  থিংনেস সম্বলিত দেড় কিলোমিটার সড়কের শুরু হওয়া চলমান সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর। পরিদর্শন কালে উপস্থিত ছিলেন, কাউন্সিলর কাজী নেয়ামুল হুদা কামাল, পৌর সচিব তুষার কান্তি ও ষোলআনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম। সংস্কার কাজ শুরু করায় পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাবাসী।

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ এবং এমপিও নীতিমালায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ বা এমপিও নীতিমালায় বড় রকমের পরিবর্তন আসছে। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। একটি কর্মশালার মাধ্যমে শিগগিরই তা চূড়ান্ত করা হবে।
শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, প্রস্তাাবিত নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে অন্তত ৭৫ হাজার নতুন শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরির সংস্থান হবে। এর সুফল গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছাবে।
দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৬ হাজার ৬৮টি প্রতিষ্ঠানে তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। আর কর্মচারী রয়েছেন প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৭৪ জন। সব মিলিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ ৬৬ হাজার জন।
সচিব জানান, নীতিমালা সংশোধিত হলে এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রায় ৫১ হাজার ৫৩৪ শিক্ষক ও ২৩ হাজার ৭০৫ এমএলএসএস। এর মধ্যে নিু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি ও সামাজিকবিজ্ঞানে পৃথকভাবে শিক্ষকের পদ তিনটি হলে যোগ হবে ছয় হাজার ৬৫২ শিক্ষক। মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও চার বিষয়ে চারজন শিক্ষক নিলে যোগ হবে ১২ হাজার ৭৭৩ শিক্ষক। মাদ্রাসায় একইভাবে এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবে সাত হাজার ৬০৬ শিক্ষক। এ ছাড়া সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের ২৬ হাজার ৬৮ শিক্ষক এমপিওভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ৭৫ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী যুক্ত হবেন।
খসড়া নীতিমালাটি তৈরি করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। পরিচালক মাধ্যমিক অধ্যাপক মো. এলিয়াছ জানান, গতবছরের ৩১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে এমপিও প্রদানের ব্যাপারে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়া নতুন কারিকুলাম ও ভৌগোলিক অবস্থান এবং নয়া বিষয়-বিন্যাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চাহিদা আর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এমপিও দেয়া হবে। এ কারণে এমপিও নীতিমালায় সংশোধন আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি কমিটি নীতিমালা পরিবর্তনের ব্যাপারে কাজ করছে। তারাই এটি চূড়ান্ত করলে যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্র জানায়, এমপিও নীতিমালা সংশোধন করার লক্ষ্যে গত ২১ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে বলা হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক অহিদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অধ্যাপক অহিদুজ্জামান বলেন, মূল কাজটি তিনিই করেছেন। একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে এখন মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে একটি কর্মশালা হবে, যেখানে খসড়া চূড়ান্ত হবে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ) শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও প্রদান এবং জনবল কাঠামোসম্পর্কিত নির্দেশিকা শীর্ষক এই নীতিমালা এর আগে ২০১০ সালে একবার সংশোধন করা হয়। দ্বিতীয়বার এটি সংশোধন করা হয় ২০১৩ সালে। জানা গেছে, সংশোধিত নীতিমালায় দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনবল কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২০১৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নিু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি ও সামাজিকবিজ্ঞান- এ তিন বিষয় মিলিয়ে একজন শিক্ষক পাচ্ছে। এখন তিনটি বিষয়ের জন্যই তিনজন শিক্ষকের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে এসব বিদ্যালয়ে এমএলএসএসের সংখ্যা একজন থেকে বাড়িয়ে দুজন করা হবে। আর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি, সামাজিকবিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা- এ চার বিষয়ের জন্য তিনজন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হতো। এখন চার বিষয়েই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চারজন করে শিক্ষক পাবে। এর বাইরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় একজন করে এমএলএসএস ছিল তা বাড়িয়ে দুজন করা হবে। নীতিমালা সংশোধন কমিটির একজন সদস্য জানান, বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের সব শ্রেণীতে নতুন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ের জন্য পৃথক শিক্ষকের প্রয়োজন। আর বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় একজন করে এমএলএসএস রয়েছে। সেখানে গার্ড, মালী ও ঝাড়ুদার- এ তিন পদের জন্য একজন এমএলএসএস রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি সারা দিন দায়িত্ব পালন করে তার পক্ষে রাতে গার্ড দেয়া সম্ভব নয়। আবার কেউ রাতে দায়িত্ব পালন করলে স্কুল সময়ে কাজ করার জন্য কেউ থাকে না। এ সমস্যা সমাধানেই এমএলএসএসের সংখ্যা দুজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ করার ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে ছিল। এ বিষয়টি মাউশির হাতে আনা হবে।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক এলিয়াছ হোসেন বলেন, বিজ্ঞানের শিক্ষকের বিষয়েও তারা সংশোধনী আনার প্রস্তাব রাখছেন। কেননা রসায়ন ও পদার্থ আর জীববিজ্ঞানের মতো বিষয় একজনের পক্ষে পড়ানো সম্ভব নয়। তাই জীববিজ্ঞানে আলাদা শিক্ষক দরকার। এটা নিয়োগ করা সম্ভব হলে শিক্ষার মান বাড়বে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের বলে জানান। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জনবল বৃদ্ধির কারণে সংশোধিত নীতিমালার ব্যাপারে এখন নতুন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি লাগবে। এরপর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চূড়ান্ত করতে হবে।
তবে এলিয়াছের কর্মকান্ডে নাখোশ শিক্ষাসচিব।

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

পাইকগাছায় দিশেহারা জামায়াত নেতাকর্মীরা; নিজেদের রক্ষা করতে আ’লীগের ছায়াতলে অবস্থান নিচ্ছেন অনেকেই

বিশেষ প্রতিনিধি ॥খুলনার পাইকগাছায় সরকার বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। একাধিকবার জেল খেটে অনেকেই হয়ে গেছেন নিস্ক্রিয়, দলের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজনৈতিক কর্মসূচী থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছেন অনেকেই, অনেকেই আছেন আত্মগোপনে, অনেকেই আবার গ্রেফতার এড়াতে সরকার দলীয় (আ’লীগের) সাইন বোর্ড লাগিয়ে নিজেদেরকে রক্ষা করার চেষ্ঠা করছেন। জামায়াাতের এ ধরনের অনেক দায়িত্বশীল পলাতক নেতা বর্তমানে আ’লীগের ছায়াতলে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে বলে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি খুলনা জেলা আ’লীগের সম্মেলনে পাইকগাছা উপজেলা আ’লীগের একাংশের নেতাদের সাথে আ’লীগের ফেস্টুন লাগানো জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাকে দেখে হতবাক হয়েছেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দলীয় উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেও তারা।
 
সুত্রমতে-২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী গত ৬ বছরের সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান শরীক জামায়াত মুখ্য ভূমিকা পালন করে এসেছে। আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে জামায়াতের হাজারো নেতাকর্মী জড়িয়ে পড়েন একাধিক মামলায়। দলের অনেক নেতাকর্মী দীর্ঘদিন জেলে থাকা সময়ে পরিবার পরিজনকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। অনেকেই পলাতক থাকাায় পরিবার থেকে হয়ে পড়েন বিচ্ছিন্ন। এসব নানাবিধ কারনে সরকার বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে বর্তমানে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল এক নেতা জানান এ পর্যন্ত আমাকে কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছে। জেলা থাকাকালীন সময়ে দলের পক্ষ থেকে পরিবার পরিজনের কেউ খবর নেয়নি। তাই অনেকটাই ক্ষোভে দুঃখে দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বলে দায়িত্বশীল এ নেতা জানান। বিগত ৫ জানুয়ারীকে কেন্দ্র করে থানাপুলিশ নাশকতা রোধে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন তালিকা প্রনয়ন করার মাধ্যমে কঠোর অবস্থান নেয়ার ফলে গ্রেফতার এড়াতে দলের অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতাই রয়েছে পলাতক। ফলে অনেকটাই নেতাকর্মী ছাড়াই চলছে জামায়াতের কার্যক্রম। পলাতকথাকা তালিকাভূক্ত অনেক নেতা আ’লীগের সাইনবোর্ড নিজেকে রক্ষা করার চেষ্ঠা করছেন। গত বৃহস্পতিবার জেলা আ’লীগের সম্মেলনে পাইকগাছা পৌর জামায়াতের ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ আসাদুল ইসলামকে আ’লীগের ফেস্টুন লাগিয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামান ও আ’লীগ নেতা শেখ কামরুল হাসান টিপুর সাথে “উপজেলা যুবলীগের ফেসবুকের আইডিতে” ছবি দেখে হতবাক হয়েছেন আ’লীেেগর অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। অনেকেই মনে করছেন নিজেদের রক্ষা এবং নাশকতার দায়ভার আ’লীগের উপর চাপিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই কৌশলগতভাবে জামায়াতের এসব নেতারা আ’লীগের অভ্যন্তরে অবস্থান নিচ্ছে। এ ব্যাপারে পৌর জামায়াতের সভাপতি ডাঃ আসাদুল হক জানান আসাদুল আমাদের পৌর সংগঠনের ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি। আ’লীগের কর্মসূচীতে তিনি যদি যোগদান করে থাকে তবে সেটা আমাদের অগচরে করেছে বলে জামায়াতের এ নেতা জানান। নাশকতা সৃষ্টিকারী স্থানীয় তালিকায় আসাদুলের নাম রয়েছে বলে গোয়েন্দা সুত্র নিশ্চিত করেছে। এ প্রসংগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগ নেতা মোঃ রশীদুজ্জামান জানান জামায়াতের এ ধরনের কোন নেতা আ’লীগের কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেছে সে ব্যাপারে কোন কিছু জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৫

পাইকগাছায় নাগরিক কমিটির সভায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সহ আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

শেষমেষ মামলা সিআইডিতে
নিউজ ডেস্ক ॥ খুলনার পাইকগাছায় অবশেষে দুই বছর পর নাগরিক কমিটির প্রতিবাদ সভায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুনছুর আলী গাজীসহ আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠণ করেছে সিআইডি। দীর্ঘদিন পর হলেও আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠণ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
    প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদখালী বাজারের সরকারি জমির উপর প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি পাকা ঘর নির্মাণ পূর্বক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এর প্রতিবাদ স্থানীয় নাগরিক কমিটি ২০১২ সালের ১৭ অক্টোবর বিকালে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সভা শুরুর আগে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুনছুর আলী গাজীসহ তার লোকজন বাঁধা প্রদান করলে স্থান পরিবর্তন করে গরুর হাটে সভা পরিচালনার কাজ শুরু করলে পুলিশের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন সভায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দকে জখম করে। এই ঘটনায় চাঁদখালী ইউনিয়ন নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক কালীদাশপুর গ্রামের মৃত রমজান সরদারের পুত্র মোঃ আব্দুল আজিজ সরদার বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর আলী গাজীকে প্রধান আসামী করে ২২ জনের নাম উল্লেখপূর্বক থানায় মামলা করে। মামলার ৩ তদন্ত কর্মকর্তা এস,আই শাহাদাৎ হোসেন, এস,আই জাহাঙ্গীর আলম ও এস,আই বিশ্বজিত কুমার ধারাবাহিকভাবে চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করার প্রদান প্রেক্ষিতে বাদীর নারাজীর আবেদনের কারণে বিজ্ঞ আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য গত ৭ ডিসেম্বর’১৪ তারিখে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সরদার মোঃ হায়াত আলীর উপর ন্যস্ত করেন। সিআইডি কর্মকর্তা ঐ সময় সাংবাদিকদের ধারণকৃত ছবি সংগ্রহ, জখমীদের ডাক্তারী সনদপত্র পর্যালোচনা, জখমী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে বাদীর আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠণ করেছেন।

শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৫

Environment-friendly improved shrimp farming technology minimizes risks and increases production



Md. Ashraful Hoque
Technical Specialist
AIN Project, WorldFish-Bangladesh

Shrimp sector in Bangladesh play a vital role in respect of the country economy, more stable and diversified livelihood opportunities increase in income and food security to the adjacent people in the coastal areas of Bangladesh and it is the second highest foreign exchange earning source. The impact of the shrimp farming process has economic, social and environmental dimensions. All of these may have serious implications for sustainability, not only for shrimp farming but also for the rural community in the coastal areas of Bangladesh. Nevertheless, the shrimp sector in Bangladesh is facing several challenges, such as low farm yield, poor quality, WSSV incidence etc. are crucial issues hindering expected growth. Regardless of the high demand for this product, shrimp farming is still characterized as being traditional and having low productivity. In this situation, WorldFish- Bangladesh  taken  initiative activities and thought through the AIN project with the finance assistance of USAID for improving resource use effectiveness to boost productivity of shrimp farmers at farm level in a sustainable manner through dissemination of improved and bio-secured shrimp culture technologies namely Modified Traditional Technology (MTT). Training shrimp farmers, improved water management, low cost feeding and fertilization and better pond management, stocking Polymerase Chain Reaction (PCR) tested White Spot Syndrome Virus (WSSV) free post larvae (PL) are some of the features of the improved technology being followed the previous project to increase production effectiveness. This project suggested to stock screened shrimp PLs in gher farming those are come only from hatcheries which can be minimized the outbreak of Viral disease, less contamination and also be minimized the negative environmental impacts by  practicing the environment-friendly improved shrimp farming technologies and also focus on shrimp farming systems, their productivity, changing pattern of environmental issues and some extend on the socio-economic aspect of the adjacent dependent people in the coastal region of Bangladesh and assessing the potential for future improvements is considered essential for establishing an environment-friendly sustainable shrimp culture.

 

The Modified Traditional Technology is a modification of the Closed System Technology. In this system, virus free PLs are reared at relatively high density in the permanent nursery (10% of the grow-out pond) for up to 20-25 days, made in the grow-out pond. The nursery is cleaned, bio-secured and disinfected with bleaching powder at the dose of 60-70 ppm and fertilized with Urea and TSP. The PLs are fed with high quality commercial starter feed in the nursery and then released in the untreated grow-out ponds. This technology is favored for two matters. One is screened PLs are reared in the nursery for 20-25 days and another is as the virus attack usually starts at the age of 45 -60 days if the pond is not disinfected. As in the MTT system the PLs are released in the pond 20-25 days after nursing, it generally extend the days of disease occurrence up to 75-90 days. During this time most of the shrimp are attained to harvest weight and thus reducing the risk of disease outbreak.


Description and cost-benefit analysis on 100 decimal (water area) MTT gher farming system: Good pond preparation (remove pond bottom sludge) maintain stocking density, water quality parameters (water depth 4.5-5 feet, PH7.5-8.5, alkalinity 80-120 ppm etc), proper feed  management, control algae and other management strategies are the key features of this technology which assist to minimize risk and  increase production. In this system the survival rate of PLs in nursery will be 80-85% and in grow-out pond juvenile survival rate will be 90-95%. For 100 decimal pond 6000 PLs will be stock in nursery pond and from that 4800-5000 Juvenile will be stock in grow-out pond in each cycle and per year up to 5 cycles will be possible to complete where during  harvesting period the average body weight of the shrimp will be 33-35 gm.

To implement this culture system the costs will be pond de-watering, pump out 2,000 taka, pond re-excavation, black soil removing, dike repairing labor 15,000 taka, lime for pond bottom soil 1,200 taka (Cao @ 1kg per decimal @ 12 taka per kg), fertilizers applied in pond bottom 570 taka (urea@ 100-200gm/decimal, TSP @ 100-200 gm/decimal, urea 16 taka/kg and TSP 22 taka/kg), mustard oil cake 320 taka ( oil cake 100 gms/decimal @ 32taka/kg), pond watering by pump 7,000 taka, lime in pond water 6,000 taka ( Cao @ 250 gm/decimal , @ 12 taka/kg 20 times for 5 cycles), fertilizer applied in pond water 17,100 taka (urea@ 100-200gm/decimal, TSP @ 100-200 gm/decimal, urea 16 taka/kg and TSP 22 taka/kg  30 times for 5 cycles), molasses in pond water 11,700 taka ( @ 100-200 gms/decimal, @ 32 taka/kg 30 times), oil cake 14,400 taka ( @150 gms/decimal for 30 times), rice-bran, yeast powder mixed 11,250 taka,  PCR tested PLs 15,000 taka ( 6000 PLs/cycle, @ 0.50 Taka/PL for 5 cycles), Feed 55,598 taka ( FCR 1:5, PL survival 80% in nursery and 90% in grow-out pond, ABW 33gms and feed @52 taka/kg) and when water salinity becomes less than 5 ppt then whitefish fingerling stocking cost 15,000 taka ( @ 10 pcs/decimal, average weight 125 gms/pcs, @ 120 taka/kg). Total costs will be 167,938 taka.

Production and return from shrimp 427,680 taka (712.8 kg shrimp @ 600 taka/kg, ABW 33 gms) and from whitefish 86,450 taka (665 kgs whitefish @ 130 taka/kg, ABW 700 gms, survival 95%). So, total income will be 514,130 taka and net profit will be 346,192 taka from the 100 decimal shrimp farming pond through MTT system.

Shrimp sector in Bangladesh play a vital role in respect of the country economy, more stable and diversified livelihood opportunities increase in income and food security to the small households and poor in rural coastal areas of Bangladesh is most important and it is the second highest foreign exchange earning source. In Bangladesh shrimp farming has negative ecological impact in terms of salinity increase, destroying marine species and also loss of bio-diversity. As an alternative of the negative impact on ecology, the economic importance of shrimp can’t be ignored for a developing country like Bangladesh. Proper management and planning can be provided a sustainable growth and advantage of shrimp farming as well as will be responded positive impact on environment. Pollution, destruction of sensible coastal habits, threats to aquatic bio-diversity and significant socio-economic cost must me balance against the direct economic benefits or earning from the shrimp farming. Finally the writer Md. Ashraful Hoque, Technical Specialist, AIN Project, WorldFish-Bangladesh mentioned that there is no way for boost productivities of shrimp without environment-friendly improved shrimp farming systems through which easily possible to produce double or more than double production of the national average production.

শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৪

কাঁকড়া ফ্যাটেনিং কলাকৌশল এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কাঁকড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ হতে রপ্তানিযোগ্য মৎস্য পণ্যের মধ্যে চিংড়ির পরেই কাঁকড়া অবস্থান। বাংলাদেশ হতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট আকারের প্রচুর পরিমানে কাঁকড়া বিদেশে যেমন-হংকং, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, সিংগাপুরসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপ মহাদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে যার সিংহভাগিই উপকূলীয় অঞ্চলের বিশেষ করে খুলনার (পাইকগাছা), সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী ইত্যাদি অঞ্চলের প্রাকৃতিক লোনাপানি জলাশয় হতে আহরিত হয়ে থাকে। বর্তমানে সারাদেশে ২.৫-৩.০ লক্ষ লোক কাঁকড়া আহরণ ও বিপনন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে প্রতিনিয়ত কাঁকড়া আহরণের ফলে প্রকৃতিতে এর প্রাচুর্যতা দিনে দিনে হ্রাস পাচ্ছে। প্রকৃতি হতে আহরণকৃত কাঁকড়ার মধ্য হতে রপ্তানিযোগ্য  কাঁকড়া বাছাই প্রক্রিয়ায়ও বেশ পরিমাণ কাঁকড়া বিনষ্ট হয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাঁকড়া চাষ ও রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া উৎপাদনে ফ্যাটেনিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আহরণ ও বাছাইকালে এর অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে এবং অন্যদিকে প্রকৃতি হতে কাঁকড়ার আহরণ চাপ হ্রাস পেয়ে জীববৈচিত্র  সংরক্ষিত হবে এবং চাষ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক উৎস হতে আহরিত অপরিপক্ক ও কম মূল্যের কাঁকড়া ফ্যাটেনিং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচনসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। বিভিন্ন কাঁকড়া চাষীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং গবেষকদের বিশ্লেষনা মোতাবেক ফ্যাটেনিং এর উপর ধারনা বর্ণনা করা হলো- প্রথমত-ঘের নির্বাচন ও প্রস্তুতি ঃ কাঁকড়া ফ্যাটেনিং এর জন্য দো-আঁশ বা পলিযুক্ত দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। ঘেরের আয়তন ০.৫-০.১ হেক্টর ও পানির গভীরতা ১.০- ১.৫ মিটার, পানির লবনাক্ততা ৫-২৫ পিপিটি, তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রী সে, দ্রভিভুত অক্সিজেন ৪-৮ পিপিএম এবং পি.এইচ ৭.৫-৮.৫ এর মধ্যে থাকলে ভালো ফল আশা করা যায়। ঘের শুকানোর পর পাড় ভালোভাবে মেরামত এবং কাঁকড়া যাতে বের হয়ে যেতে না পারে তার জন্য ১.৫ মিটার উচ্চতার বাঁশের বানা/ বেড়া দিয়ে পুকরের চারপাশ ঘিরে দিতে হবে এবং কাঁকড়া মাটি গর্ত করে যাতে না পালাতে পারে তার জন্য বানার ০.৫ মিটার মাটির নিচে পুঁতে দিতে হবে। এর পর পুকুরে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে পাথুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের ৭ দিন পর পুকুরে ০.২৫ মিলি মিটার ছিদ্রযুক্ত নাইলন জাল দিয়ে ছেকে জোয়ারের পানি তুলতে হবে এবং প্রতি শতকে ২ কেজি সরিষার খৈল, ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৮০ গ্রাম ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত-কাঁকড়া মজুদ ঃ পানিতে জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগের ৪-৫ দিন পরপানির রং সবুজাভ হলে পুকুরে কাঁকড়া মজুদ করা যাবে। গোনাড (ডিম্বাশয়) অপরিপক্ক সুস্থ-সবল ও সকল পাসহ স্ত্রী কাঁকড়া (১৭৫ গ্রাম বা তদুর্ধ) নাইলন ফিতা দিয়ে ভালো ভাবে বেঁধে পুকুরে  প্রতি শতকে ২৫০-৩০০ টি মজুদ করতে হবে। তৃতীয়ত-খাদ্য প্রয়োগ ও পরিচর্যা ঃ  খাবার হিসাবে ছোট তেলাপিয়া মাছ, শামুক-ঝিনুকের মাংস,ছোট চিংড়ি ও চিংড়ির মাথা, কুইচ্ছা, ইত্যাদি ছোট ছোট টুকরা করে কাঁকড়ার শরীরের ওজনের ৮-৫% হারে দৈনিক সকাল ও বিকালে ২ বার পুকুরে দিতে হবে। মাঝে মাঝে পুকুরে নেমে অথবা খাদ ট্রে-তে খাবার দিয়ে খাদ্য গ্রহনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণপূর্বক খাবার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং পানি যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য অমাবস্যা বা পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের সময় ৪-৭ দিন ৩০-৪০% হারে পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হবে। এভাবে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ১৪-১৬ দিনের মধ্যে কাঁকড়ার গোনড পরিপক্ক হয়ে যায় ও বিদেশে রপ্তানিযোগ্য বিক্রির উপযুক্ত কাঁকড়ায় পরিণত হয় এবং চতুর্থ-আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে ছয় মাস (ফেব্রুয়ারী-জুলাই) যে লবনাক্ততা পাওয়া যায়, তাতে এক বছরে প্রতি মাসে ২ টি ব্যাচ হিসাবে ১২ টি ব্যাচে কাঁকড়া ফ্যাটেনিং করা সম্ভব। নিম্নে ১০ শতক পুকুরের কাঁকড়া ফ্যাটেনিং এর ১ বছরের আয়- ব্যয় এর হিসাব দেওয়া হল- নিদিষ্ট ব্যয়- বাঁশের বানা ৬৮০০ টাকা, বানা স্থাপনের জন্য বাঁশ ১০০০ টাকা, ব্লু নেট ও নাইলন ফিতা ১০০০ টাকা, পুকুর লিজ ৩,০০০ টাকা। মোট নিদিষ্ট ব্যয়ঃ ১১,৮০০ টাকা, অনিদিষ্ট ব্যয় ঃ চুন ১৫০ টাকা, সরিষার খৈল ৬৪০ টাকা, টিএসপি ২৪ টাকা, ইউরিয়া ১২ টাকা, অপরিপক্ক স্ত্রী কাঁকড়া (গড় ওজন ১৮০ গ্রাম) ৩,০০০ টি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা ক্রয় মূল্য হিসাবে খরচ ১৬২,০০০ টাকা, খাদ্য (গড়ে ৮% হারে তেলাপিয়া/ট্রাশ ফিস ১৫ দিনের জন্য) ৬৪৮ কেজি ৪০ টাকা দরে খরচ ২৫,৯২০, শ্রমিকের মুজুরি ২,৫০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ ১,০০০ টাকা।  মোট অনিদিষ্ট ব্যয়ঃ ১৯২,২৪৬, মোট ব্যয়ঃ  ১১,৮০০ + ১৯২,২৪৬=  ২০৪,০৪৬, আয় ঃ ধরার সময় পরিপক্ক স্ত্রী কাঁকড়ার গড় ওজন  হবে ১৯০ গ্রাম, বাঁচার হার ৯০% এবং বিক্রয় মূল্য ৫০০ টাকা হিসাবে মোট আয়ঃ ২৫৬,৫০০ টাকা, ১ বছরে ১২ ব্যাচে মোট আয় =২৫৬,৫০০দ্ধ১২= ৩,০৭৮,০০০ টাকা, ১ বছরে ১২ ব্যাচে মোট ব্যয়= ২০৪,০৪৬ + (১৯২,২৪৬ দ্ধ ১১)= ২,৩১৮,৭৫২ টাকা, ঙ) নীট মুনাফাঃ ৩,০৭৮,০০০ - ২,৩১৮,৭৫২= ৭৫৯,২৪৮ টাকা। সর্বপরি তথ্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে অল্প জায়গায় কাঁকড়া ফ্যাটেনিং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন তথা উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচনসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে।  


লেখক-


মোঃ আশরাফুল হক
খুলনা বিভাগীয় টেকনিক্যাল স্পেশালিষ্ট
ওয়াল্ড ফিস, বাংলাদেশ

শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৪

নারীর ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও স্বনির্ভরতা অর্জনে সমবায়ের ভূমিকা অপরিসীম

১ নভেম্বর শনিবার জাতীয় সমবায় দিবস
নিউজ অফ পাইকগাছা ॥
    নারীর ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, স্বনির্ভরতা অর্জন ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দেশের সমবায় সংগঠনগুলো। সমবায়ের তীর্থস্থান হিসাবে খ্যাত খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় রয়েছে একটি সমবায় ব্যাংকসহ ৩৭২ টি সমবায় সমিতি। ইতোপূর্বে এ উপজেলা থেকে ২ ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠান জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। সংগঠনের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে এ অঞ্চলের অর্ধেক জনগোষ্ঠি। সমবায়ের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যাতে এ অঞ্চলে সমবায়ের কাছে দারিদ্রতা পরাজিত হবে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই মনে করেন সমবায় হতে পারে দারিদ্র বিমোচনের মূল চাবিকাঠি। আজ ১ নভেম্বর সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় সমবায় দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে সমবায় বিভাগ ও সমবায়ীবৃন্দ র‌্যালী, আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণসহ আয়োজন করেছেন নানা অনুষ্ঠান।
    ১৯০৪ সালে কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মাধ্যমে সুন্দরবন সংলগ্ন এ অঞ্চলে সর্বপ্রথম শুরু হয় সমবায় কার্যক্রম। এরপর ১৯০৯ সালে জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানি আশ্চার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি রায়) তার জন্মস্থান উপজেলার রাড়–লীতে প্রতিষ্ঠা করেন রাড়–লী কো-অপারেটিভ ব্যাংক। এরপর ধীরে ধীরে এলাকার মানুষ ঝুঁকে পড়ে সমবায় আন্দোলনে। বর্তমানে সমবায় কার্যক্রম এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, এমন কোন পাড়া মহল্লা নেই যেখানে সমবায় সংগঠন নেই। বর্তমানে উপজেলায় সমবায় সমিতির সংখ্যা ৩৭২টি। এসব সমবায়ের শেয়ার ও সঞ্চয় আমানতের পরিমাণ ১০ কোটিরও বেশি। এলাকার মোট জনসংখ্যার অর্ধেক জনগোষ্ঠি সমবায়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যার মধ্যে ৪০ ভাগই হচ্ছে নারী। সমবায়ের মাধ্যমে সঞ্চয় গচ্ছিত করে আর্তনির্ভরশীল হয়েছে হাজারো মানুষ। সমবায় থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই কিনছে ভ্যান, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল, মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে করে অনেক বেকার যুবকের সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান। কৃষি, মৎস্য ও ব্যবসা বানিজ্যের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন অসংখ্য নারী-পুরুষ। সমবায়ের নানামুখী এসব পদক্ষেপের কারনে প্রতিনিয়ত কমছে বেকারত্বের সংখ্যা। হ্রাস পেয়েছে সামাজিক অপরাধের প্রবনতা। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকায় সমবায়ে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে ধনী, গরীব, মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুবাদে ইতোপূর্বে এ উপজেলা থেকে দু’ব্যক্তি ও দু’টি প্রতিষ্ঠান জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। সমবায়ী হিসাবে ২০০০ সালে ষোলআনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি প্রয়াত মেয়র আলহাজ্ব মাহাবুবুর রহমান এবং ২০০৩ সালে ফসিয়ার রহমান কৃষি ও জনকল্যাণ সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব ফসিয়ার রহমান এবং প্রতিষ্ঠান হিসাবে ১৯৯৫ সালে ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ও ২০১১ সালে ফসিয়ার রহমান কৃষি ও জনকল্যান সমবায় সমিতি এ পুরস্কার অর্জন করেন। এ দু’টি সংগঠনের পাশাপাশি খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমাবায় সমিতি, জিরবুনিয়া সমবায় সমিতি, জোনাকি গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও সলুয়া পল্লী দুগ্ধ সমবায় সমিতিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন সুনাম অর্জন করেছে। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমবায় মেলায় স্থান করে নিয়েছে কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সলুয়া পল্লী দুগ্ধ সমবায় সমিতির কথা না বললেই নয়-বছর খানেক আগেই সমবায় বিভাগের প্রাক্তন সচিব মিহির কান্তি মজুমদারের প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠা হয় এ সংগঠনটি। সংগঠনের ১২৫ দলিত সম্প্রদায়কে বিনাসুদে প্রদান করা হয় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋন। ঋনের টাকায় সংগঠনের সদস্যরা শুরু করেন গাভী পালন। বর্তমানে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ১ হাজার লিটার দুধ। উৎপাদিত দুধ সরবরাহ করা হয় মিল্কভিটাসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে। এভাবেই এলাকার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গড়ে ওঠা সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সামাজিক নিরাপত্তায়। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এফএম সেলিম আখতার জানান-এলাকার সমবায় সমিতিগুলো এতটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ যে, এখানে তেমন কোন ক্রেডিট নির্ভর এনজিও’র কার্যক্রম নাই। সমবায়ের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যাতে সমবায়ের কাছে দারিদ্রতা পরাজিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৪

পাইকগাছায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব চিংড়ি চাষে নারীরাও এখন আত্মবিশ্বাসী

নিউজ অফ পাইকগাছা ॥
    বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের কেওড়াতলা গ্রামের মহিলা চিংড়ি চাষিরা এখন পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চিংড়ি চাষে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। চিংড়ি চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও কারিগরি জ্ঞানের অভাব ও চাষ পদ্ধতি সনাতন হওয়ায় বছরের পর বছর চিংড়ির উৎপাদন কম ও লাভের পরিমান সীমিত হওয়ায় চিংড়ি চাষিদের অর্থনৈতিক অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। ঠিক এমনি সময়  চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি তথা অধিক লাভের মাধ্যমে দরিদ্র চিংড়ি চাষিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত (এআইএন) প্রকল্পটি চিংড়ি চাষিদের পাশে এসে দাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতাই ২০১৩ সালের প্রথম দিকে কেওড়াতলা গ্রামের ২০ জন মহিলা চিংড়ি চাষিকে নিয়ে দল গঠনের মাধ্যমে তাদেরকে পরিকল্পিত ও আধুনিক চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ের উপর হাতে-কলমে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করে, ফলে চাষিরা চিংড়ি চাষ ব্যবস্থাপনার ধাপ সমূহ যেমন- পঁচা কাদা উঠিয়ে ফেলে সঠিক নিয়মে ঘের প্রস্ততকরণ, ঘেরে পানির গভীরতা বেশি রাখা, সুস্থ-সবল রোগ মুক্ত পোনা মজুদ, মজুদ ঘনত্ব ঠিক রাখা, ঘেরে নিয়মিত চুন, সার ও খাদ্য প্রয়োগ করা, মাটি ও পানির গুনাগুন ঠিক রাখা এবং রোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর যথেষ্ট জ্ঞান লাভ করেন। এরপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে দলের মহিলা চিংড়ি চাষিরা সনাতন চাষ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ও আধুনিক পদ্ধতিতে ঘের পরিচালনা করে, ফলে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর উৎপাদন এবং লাভ অনেক বেশি হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকালে দলনেত্রী লতা রানী বলেন, বিগত বছরগুলোতে তাদের ঘেরে প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে বাগদা চিংড়ির গড় উৎপাদন ছিল মাত্র ২০-২৫ কেজি অথচ এ বছর তাদের ঘেরে প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে বাগদা চিংড়ির গড় উৎপাদন ৬৫-৭৫ কেজি যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি যা তারা কখনও আশা করেনি। তারা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব চিংড়ি চাষে এখন খুবই  আত্মবিশ্বাসী। এ সময় উপস্থিত ছিল দলের অন্যান্য সদস্যাদের মধ্যে অনিমা, সুফলা, কুসুম, জয়ত্রী, রুপালি, পারুল, রেনুকা, ঊষা, শুভাশি প্রমুখসহ আশেপাশের অন্যান্য মহিলা ও পুরুষ চিংড়ি চাষিরা।  দলের চিংড়ি চাষিরা উপস্থিত সকলকে জানান, ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে হাতে-কলমে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ পাওয়ায় তারা সহজে মনে রেখে তা তাদের ঘেরে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হচ্ছে। দলের মহিলা চিংড়ি চাষিরা বিশ্বাস করেন, সকল চাষি যদি পঁচা কাদা তুলে ফেলে ভালো করে ঘের প্রস্তুত করে, পানির গভীরতা ঠিক রাখে, রোগমুক্ত ভালো পোনা মজুদ করে , নার্সারী প্রস্তুত করা সহ পোনার মজুদ ঘনত্ব ঠিক রাখে, নিয়মিত চুন, সার, খাদ্য প্রয়োগ করে এবং মাটি ও পানির গুনাগুন ঠিক রাখে তাহলে পূর্বের তুলনায় চিংড়ির উৎপাদন অনেক বেশি পাওয়া যাবে। উপস্থিত সকল চিংড়ি চাষি, প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সংবাদ প্রতিনিধেদের মাঝে কেওড়াতলার গ্রুপের মহিলা চিংড়ি চাষিরা মন্তব্য করেন, তারা এখন চিংড়ি চাষে খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং নিজেদেরকে সফল চিংড়ি চাষি বলে মনে করেন। তারা আরও বলেন, অত্র অঞ্চলের সকল মহিলা চিংড়ি চাষিরা যদি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে করে, তাহলে চিংড়ির উৎপাদন বাড়িয়ে তারা অর্থাৎ  মহিলা তথা নারীরাও   বাংলাদেশের চিংড়ি সেক্টরে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। পরিশেষে, তারা এই ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য ইউএসএআইডি এবং এআইএন প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।  

রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৪

পাইকগাছায় আধুনিক চিংড়ি চাষ ব্যবস্থাপনায় আজিজুর রহমানের সাফল্য

নিউজ অফ পাইকগাছা  ॥
    বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চল চিংড়ি চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। কিন্তু চাষ পদ্ধতি সনাতন হওয়ায় চিংড়ি চাষিদের উৎপাদন কম, লাভের পরিমান সীমিত এবং বেশিরভাগ সময়ই তাদেরকে লোকসান গুণতে হয়। চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি তথা অধিক লাভের মাধ্যমে দরিদ্র চিংড়ি চাষিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত অ্যাকুয়াকালচার ফর ইনকাম এন্ড নিউট্রিশন (এআইএন) প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার চিংডী চাষীদের মাঝে পরিবেশ বান্ধব ও আধুনিক পদ্ধতিতে চিংডী চাষ ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা করে আসছে বিগত ২০১২ সাল থেকে।
    খুলনা বিভাগের পাইকগাছা থানার কপিলমুনি ইউনিয়ন এর পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার মাগুরা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র আজিজুর রহমান একজন দরিদ্র চিংড়ি চাষি। তিনি বিগত ১৫ বছর ধরে চিংড়ি চাষ করে আসছে কিন্তু গতানুগতিক সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করার কারনে কখনই আশানুরুপ উৎপাদন পায়নি ফলে তার অর্থনৈতিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। গত বছর তিনি তার ৯৯ শতক আয়তনের ঘের থেকে মাত্র ৭৩ কেজি বাগদা, ৩২ কেজি গলদা চিংড়ি এবং ১২৭ কেজি সাদা মাছ উৎপাদন করতে পেরেছিলেন। যার মোট মূল্য ৮৩ হাজার টাকা মাত্র। অবশেষে এ বছেরর প্রথম দিকে এআইএন প্রকল্পের আওতাধীন রঘুনাথপুর গ্রামের চিংড়ি চাষি দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রতিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি  সঠিক নিয়মে ঘের প্রস্তুত, সুস্থ-সবল রোগ মুক্ত পোনা মজুদ, ঘেরে নিয়মিত চুন, সার ও খাদ্য প্রয়োগ, মাটি ও পানির গুনাগুন ঠিক রাখা সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর জ্ঞান লাভ করেন এবং বুঝতে পারেন যে এসব বিষয়গুলোর উপর অবহেলার কারনেই চিংড়ি চাষিরা খতিগ্রস্থ হচ্ছে বছরের পর বছর। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ঘের পরিচালনা করে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর অনেক বেশি লাভবান হয়েছেন।  আজিজুর রহমান  আধুনিক এম টি টি পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে এ বছর তিনি তার ৯৯ শতক ঘের থেকে এ পর্যন্ত ১৭৭ কেজি বাগদা চিংড়ি উৎপাদন করেছে যার মূল্য ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা এবং ৫২০ কেজি সাদা মাছ উৎপাদন করেছে যার মূল্য ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ করে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১২ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। প্রতিনিধিকে জানান- তিনি আশা করেন তার ঘের থেকে  আরও ৬০-৮০ হাজার টাকার চিংড়ি ও সাদা মাছ বিক্রয় হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সকল চাষি যদি পঁচা কাদা তুলে ফেলে ভালো করে ঘের প্রস্তুত করে, পানির গভীরতা ঠিক রাখে, রোগমুক্ত ভালো পোনা মজুদ করে , নার্সারী প্রস্তুত করা সহ পোনার মজুদ ঘনত্ব ঠিক রাখে, নিয়মিত চুন, সার, খাদ্য প্রয়োগ এবং মাটি ও পানির গুনাগুন ঠিক রাখে তাহলে পূর্বের তুলনায় চিংড়ির উৎপাদন অনেক বেশি পাওয়া যাবে।
    বর্তমানে তিনি নিজেকে একজন সফল চিংড়ি চাষি বলে মনে করেন এবং সকল চিংড়ি চাষিকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করার জন্য আহ্বান করেন। পরিশেষে, আজিজুর রহমান তথ্য প্রদানকালে উপস্থিত সকল চিংড়ি চাষি, প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সংবাদ প্রতিনিধেদের মাঝে এই ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য ইউএসএআইডি এবং প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০১৪

পাইকগাছায় আ’লীগের আহবায়ক কমিটি প্রকাশের পর বিতর্কিতরা বিপাকে; বাদ পড়া ত্যাগী নেতারা বিক্ষুব্ধ

“গো চেনায় দুধ নষ্ঠ”
নিউজ অফ পাইকগাছা ॥
খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা আওয়ামীলীগের ৪৭ সদস্যের আহবায়ক কমিটি প্রকাশের কমিটির নতুন মুখদের মধ্যে ইতিবাচক বক্তব্য লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমান, সাবেক এমপি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ঘরানার কমিটি থেকে বঞ্চিত রাজনৈতিক নেতারা রীতিমত রাগে ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে। দলের অনেক ত্যাগী ও সংকটকালের পরিক্ষিত নেতারা অভিযোগ করেছেন কমিটিতে অজ্ঞ, অরাজনৈতিক, বির্তর্কিত এমনকি দলের প্রয়োজনের চাইতে ব্যক্তি প্রয়োজনে ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের স্থান দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন উপমহাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আওয়ামীলীগের তৃনমুলের নেতৃত্ব, কতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরিন দ্বদ্ধ নিরসন করা না গেলে জামায়াত-বিএনপিকে মোকাবেলা করা দুরের কথা একসময় সংগঠনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন। ঘর সামলাতে অবিলম্বে তৃনমুল নেতাকর্মীরা জেলা ও হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট দলীয় একাধিক সুত্রে জানিয়েছে, তৃনমূল ও উপজেলায় আওয়ামীলীগের সংগঠনকে নতুন মাত্রায় সাজাতে এবং গতিশীল করতে প্রায় ১ যুগ আগের উপজেলা কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গাজী মোহাম্মদ আলীকে আহবায়ক করে ৪৭ সদস্যের একটি কমিটি গনমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কমিটি প্রকাশের পর দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। দলের অভ্যন্তরে এবং সর্বত্রই কমিটির স্থান পাওয়া সদস্যরা বর্তমান এমপি এ্যাড. শেখ মোঃ নূরুল হক, সাবেক এমপি এ্যাড. সোহরাব আলী সানা ও বিদায়ী সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশীদুজ্জামানের সমর্থক কি না বা কে কার লোক এটাই নিয়ে সর্বত্রই চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে। একটি সুত্র জানিয়েছে দলের চাইতে ব্যক্তির লোক পরিচয়ের এই সংস্কৃতির চর্চা চলতে থাকলে দলের তৃনমুলে এক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন। অপরদিকে এ কমিটিতে অনেক অরাজনৈতিক, এলাকায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের ঢোকানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। উপজেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শিক্ষক কুমুদ রঞ্জন ঢালী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেছেন-সারাজীবন দলের প্রয়োজনে দূর্দিন-সুদিনে শ্রম, অর্থ দিয়েও সংগঠনের কাজ করে আসছি। অথচ নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া আমার ইউনিয়নে এক ব্যক্তি যে কখনও কোন সময় দলের কর্মকান্ডে জড়িত ছিল না, এমনকি নূন্যতম যার সদস্যপদও নাই এমন ব্যক্তিকে ঢোকানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সোলাদানা ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল কৃষ্ণ সরকার বলেন-দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছি এবং একাধিকবার মামলার স্বীকারও হয়েছি। তিনি বলেন এক সময়ে যারা দলের বিরোধী লোক ছিল এমন ব্যক্তি পঞ্চানন নামের এক বিতর্কিত লোককে এ কমিটিতে স্থান দেয়ার ঘটনায় তিনি বিষ্মিত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা এটাকে প্রথম রাউন্ডের খেলা বলে মনে করছেন এবং আগামীতে উপজেলা মুল কমিটিতে স্থান পেতে উভয় গ্রুপের শীর্ষ নেতাদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। কমিটিতে স্থান পাওয়া সাবেক উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিজন বিহারী সরকার বলেছেন- সবকিছুই ভাল হলেও কমিটিতে দু’একজন ব্যক্তির নাম থাকায় এটাকে তিনি এক বালতি দুধে এক ফোটা গো চেনার সাথে তুলনা করেছেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উভয় অংশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ না দিলে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন না করলে তৃনমুলে দলের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।